← হোম
খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (৩ বার) · বিএনপি চেয়ারপারসন · গণতন্ত্রের মা

১৫ আগস্ট ১৯৪৬ — ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

📍 জলপাইগুড়ি 🏛️ ৩ বার প্রধানমন্ত্রী 🗳️ ২৩/২৩ অপরাজিত 🏅 স্বাধীনতা পুরস্কার 🇺🇸 ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি 🇨🇦 মাদার অব ডেমোক্রেসি

জন্ম ও বংশ পরিচয়

খালেদা খানম পুতুল ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

পিতা ইস্কান্দার আলী মজুমদার — বাঙালি যোদ্ধা গাজী নাহার মুহাম্মদ খানের প্রপৌত্র। ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি গিয়ে চা ব্যবসায় জড়িত হন। মাতা তৈয়বা মজুমদার — দিনাজপুরের ইটাহারের চাঁদবাড়ি গ্রামের মেয়ে।

১৯৫০ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর পরিবার দিনাজপুরে চলে আসেন। আদি পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রাম।

বিবাহ ও পরিবার

১৯৬০ সালের আগস্টে ১৫ বছর বয়সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহ। দিনাজপুর মিশনারি স্কুল ও বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা। বিয়ের পর "খালেদা জিয়া" নামে পরিচিত।

তারেক রহমান

জন্ম ১৯৬৫ — বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান

আরাফাত রহমান কোকো

১৯৬৯–২০১৫ — ক্রীড়া সংগঠক

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা — ১৯৭১

১৬ মে
ঢাকায় আগমন

দুই সন্তানসহ নৌপথে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ। বোন খুরশীদ জাহানের খিলগাঁওয়ের বাসায় আশ্রয়।

২৬ মে
অবস্থান ফাঁস

পাকিস্তানি সেনারা জেনে যায়। আত্মগোপন শুরু — এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি।

২ জুলাই
গ্রেফতার

সিদ্ধেশ্বরীতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার। সংসদ ভবনে, পরে সেনানিবাসে আটক।

১৬ ডিসেম্বর
মুক্তি

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দিন মুক্তি। জেনারেল অরোরার ব্যবস্থায় সিলেটে, পরে কুমিল্লায় স্বামীর সাথে মিলিত।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন (১৯৮২–১৯৯০)

১৯৮১ সালে স্বামীর হত্যার পর ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদান। ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত। আট বছরের আপোষহীন সংগ্রামে তিনি "আপোষহীন নেত্রী" খ্যাতি অর্জন করেন।

"সরকারি নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, নির্বাচন বর্জন, লাভজনক পদ প্রত্যাখ্যান বা কারাবরণ — এসব ব্যক্তিগত ত্যাগের প্রমাণ... খালেদা যখন থেকে বিএনপির নেতৃত্বে এসেছেন, তখন থেকে তিনি এরশাদের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকার করেছেন। ১৯৮৬ সালে নির্বাচন বর্জনের পর তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়।" — গওহের রিজভী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী

৪ ডিসেম্বর ১৯৯০: দীর্ঘ আন্দোলনের পর এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন।

প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্ব (১৯৯১–১৯৯৬)

৬০%
শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি
৭৩.২%
SSC পাসের হার
১ম
নারী PM
১২তম
সংশোধনী
📚 শিক্ষা সংস্কার

প্রাথমিক শিক্ষা বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক। মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত ফ্রি। SSC পাসের হার ৩১.৭৩% → ৭৩.২%।

🏛️ সংসদীয় গণতন্ত্র

দ্বাদশ সংশোধনীতে ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান। সকল ক্ষমতা PM-এ হস্তান্তর।

💰 অর্থনৈতিক সংস্কার

ভ্যাট প্রবর্তন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, বেসরকারিকরণ বোর্ড, নতুন ইপিজেড।

তৃতীয় প্রধানমন্ত্রিত্ব (২০০১–২০০৬)

৬%+
জিডিপি প্রবৃদ্ধি
$৩B
বৈদেশিক রিজার্ভ
$২.৫B
এফডিআই
১৪তম
ফোর্বস ক্ষমতাবান নারী

চারদলীয় জোটে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়। মাথাপিছু আয় $৪৮২-এ উন্নীত। শিল্প খাতের জিডিপি অংশ ১৭% অতিক্রম। ২০০৬ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁর প্রশাসনের প্রশংসা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

কারাদণ্ড ও সংগ্রাম (২০১৮–২০২৪)

৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ — জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড। পরে মোট ১৭ বছরের সাজা। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একমাত্র বন্দি।

২৫ মার্চ ২০২০ — কোভিড মহামারীতে মানবিক কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি। কার্যত গৃহবন্দি।

৫ আগস্ট ২০২৪ — জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি।

আদালত বলেন: "প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এ মামলা করা হয়েছিল। বিচার ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"

মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ — ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু। বয়স ৭৯ বছর।

পরদিন মানিক মিয়া এভিনিউতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা। সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার। জিয়া উদ্যানে স্বামীর কবরের পাশে সমাহিত। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক।

ভারত, পাকিস্তান, চীন, সৌদি আরব, কাতার, মালদ্বীপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বনেতারা শোক প্রকাশ করেন।

অপরাজিত নির্বাচনী রেকর্ড — ২৩/২৩

বছরআসনভোট%ফলাফল
১৯৯১বগুড়া-৭৮৩,৮৫৪৬৬.৯%✅ বিজয়ী
ঢাকা-৫৭১,২৬৬৫১.৫%✅ বিজয়ী
ঢাকা-৯৫৫,৯৪৬৬০.৪%✅ বিজয়ী
ফেনী-১৩৬,৩৭৫৩৮.৭%✅ বিজয়ী
চট্টগ্রাম-৮৬৯,৪২২৫২.১%✅ বিজয়ী
জুন ১৯৯৬বগুড়া-৬১,৩৬,৬৬৯৫৮.৯%✅ বিজয়ী
বগুড়া-৭১,০৭,৪১৭৭২.১%✅ বিজয়ী
ফেনী-১৬৫,০৮৬৫৫.৬%✅ বিজয়ী
২০০১বগুড়া-৬২,২৭,৩৫৫৭৮.৬%✅ বিজয়ী
বগুড়া-৭১,৪৭,৫২২৭৯.০%✅ বিজয়ী
২০০৮বগুড়া-৬১,৯৩,৭৯২৭১.৬%✅ বিজয়ী
বগুড়া-৭২,৩২,৭৬১৭১.২%✅ বিজয়ী
ফেনী-১১,১৪,৪৮২৬৫.৪%✅ বিজয়ী

৫টি সংসদ নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা — প্রতিটিতে বিজয়ী। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড।

পুরস্কার ও সম্মাননা

🏆
স্বাধীনতা পুরস্কার

মরণোত্তর, ২০২৬ — বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা

🇺🇸
ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি

নিউ জার্সি স্টেট সিনেট, ২০১১ — প্রথম বিদেশি এই সম্মান পান

🇨🇦
মাদার অব ডেমোক্রেসি

কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন, ২০১৮

🛣️
খালেদা জিয়া স্ট্রিট

হ্যামট্রামিক, মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র — ২০২৬

👩
অদম্য নারী পুরস্কার

"গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী" — ২০২৬

🏫
নামকরণ

চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হল

স্মৃতিচিত্র